আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু’‌টি বাসের রেষারেষি আর তার কবলে পরে পা হারাতে হল কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক সার্জেন্ট বছর তিরিশের সুদীপ রায়কে। তবে পা হারিয়েও জীবন যুদ্ধে আজ তিনি সফল। কৃত্রিম পা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আজ আবার সুদীপ রায় নিজের ডিউটিতে ফিরতে পেরেছেন। পুরুলিয়ার ছেলে সুদীপ ২০১৪ সালে যোগ দেন কলকাতা ট্রাফিক পুলিসে। পোস্টিং ছিল সাউথ ট্রাফিক গার্ডে। চলতি বছরের ৭ জুন সুদীপ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সেই সময় তিনি ডিউটি করছিলেন ডাফরিন রোডে। দু’‌টি মিনিবাস রেষারেষি করার সময় একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে সুদীপকে, বাসের চাকা চলে যায় ডান পায়ের ওপর দিয়ে। ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, পেলভিস জয়েন্টের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছে। ডান পায়ের অবস্থা শোচনীয়, টুকরো টুকোরো হয়ে গিয়েছে হাঁটুর ওপরের অংশ। চিকিৎসকরা দু’‌টি অস্ত্রোপচার করলেও সুদীপের ডান পাকে বাঁচানো যায়নি সেদিন। বাদ দিতে হল হয়েছিল পা, পেলভিস জয়েন্টে বসানো হয়েছিল ধাতব প্লেট। 
চারমাস শয্যাশায়ী ছিলেন সুদীপ। ডিউটিতে আদৌও ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু হার মানেননি তিনি।

রাস্তায় ডিউটি না করে তিনি বাড়িতে বসে থাকবেন এটা ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না। সঙ্গে অবশ্যই ছিল কলকাতা পুলিস। সুদীপের চিকিৎসার সব খরচ কলকাতা পুলিসই করেছে। ১৬ অক্টোবর সুদীপের পায়ে ‘‌কৃত্রিম অঙ্গ’‌ বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা পুলিস কর্তৃপক্ষ। জয়পুর থেকে নিয়ে আসা হয় ‘‌কৃত্রিম পা’‌। যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বসানো হয় সুদীপের ডান পায়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে সুদীপের পা সারাতে শুরু হয় নানা ধরণের ব্যায়াম। আর সেই জন্যই বর্তমানে সুদীপ হাঁটতে পারছেন। সচল হচ্ছে তাঁর পা। তিনি সিঁড়িও ভাঙতে পারছেন। বাইক চালাতেও শুরু করেছেন তিনি। ডাফরিন রোডে গেলে এখনও সুদীপ রায়কে ডিউটি করতে দেখা যাবে। তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর চেনা ছন্দে।
তবে এতকিছুর পরও মিনিবাসের চালককে গ্রেপ্তার করে লাভ হয়নি। সে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। কারণ, পথ দুর্ঘটনায় যে কড়া বিধানের কথা উল্লেখ নেই আমাদের এ দেশের আইনে। যদি থাকত তবে হয়ত দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত পরিবাররা একটু খুশি হতেন। বন্ধ হত অযথা বাস–গাড়ির রেষারেষি।  

 

 

 

 

 

 

সার্জেন্ট সুদীপ রায়।   


‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top