আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল এই রাজ্যেই। কিন্তু সেই কেরলই সফলভাবে সংক্রমণকে বেঁধে রেখেছে। এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৮৯৪। মৃত্যুর হারও গোটা দেশের মধ্যে অনেকটাই কম। এখন পর্যন্ত ২৭ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে কেউ মারা যাননি রাজ্যে।
কেরলে করোনা নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে রয়েছে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ আর অবশ্যই পুলিশি তৎপরতা। তিন স্তরে লকডাউন করেই এখন রাজ্যে করোনা আক্রান্তের হার কমেছে। বিশেষত ত্রিশূর জেলায়। এই সাফল্যের কারিগর পুলিশের মহিলা বাইকবাহিনী। 
বিশেষ এই মহিলা বাইক বাহিনী গঠন করা হয় এপ্রিলে। উদ্দেশ্য একটাই, কেউ লকডাউন আইন ভাঙছেন কিনা জেলায় টহল দিয়ে দেখবেন বাহিনীর সদস্যরা। র‌য়্যাল এনফিল্ডে চেপে সেটাই করে চলেছেন এই বাহিনী। নজর রাখছেন, কোথায় করোনা–বিধি ভাঙা হচ্ছে। কেউ সামাজিক দূরত্ব বিধি ভাঙছেন কিনা! এমনকী শিশু, মহিলা বা প্রবীণ নাগরিকরাও প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্য পেতে পারবেন। মাথায় তাঁদের রয়েছে বিশেষ রঙের হেলমেট। মুখে মাস্ক। 
সাধারণ মানুষ আর পুলিশের মধ্যে দূরত্ব কমানোর জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছিল কেরল পুলিশ। নাম ‘‌জনমৈত্রী সুরক্ষা প্রকল্প’‌। তার আওতায় এই মহিলা বাহিনী করোনা পরিস্থিতি দেখতে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল লোকনাথ বেহেরা জানালেন, করোনা মোকাবিলায় প্রথম থেকেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে মহিলা পুলশি। সেই কথা মাথায় রেখেই এই বাইকবাহিনী গঠন হয়েছে। বেহেরার কথায়, ‘‌এই বাহিনী দেখিয়ে দিল নারীশক্তি কী। যেসব মানুষ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন এই মহিলা বাহিনী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে অবসাদ দূর করার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কড়া হতেও পিছপা নন তাঁরা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগও জমা পড়েছে তাঁদের হাত ধরে।’‌ শুধু ত্রিশূর নয়, কেরল পুলিশ গোটা রাজ্যেই এই মহিলা বাইক বাহিনী মোতায়েন করার চিন্তা করছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top