আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ একটা বিশেষ দিন। আজ আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস। কিন্তু কোভিড মহামারীর ধাক্কায় এখন  সবার মুখে মাস্ক। মানতে হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। তাই সেখানে চুম্বন দিবস কতটা যুক্তিযুক্ত সে প্রশ্ন করতেই পারেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভাবুন, যদি আপনি সুস্থ হন, কোনওরকম বিধিনিষেধের গেড়ো না থাকে, তাহলে পরস্পরকে কাছে টানার এমন সুবর্ণ সুযোগ আর কবে পাবেন। 
ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে–র মতো এই দিনটির ইতিহাস মোটেও অতো প্রাচীন নয়। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুতে আমেরিকায় প্রথম শুরু হওয়া এই দিনটি ক্রমেই সারা বিশ্বে জনপ্রিয় উঠেছে। নিজের প্রিয় মানুষকে চুম্বন করে ভালোবাসা জানানোই এই দিনটির বিশেষত্ব। তার মানে এই নয় যে শুধুই দুজন প্রেমিক–প্রেমিকার চুম্বন। নিজের যে কোনও কাছের, প্রিয় মানুষের গালে চুম্বন এঁকে দিন এই দিনে। সে আপনার বাবা,মা, বন্ধু, সন্তান যে কেউ হতে পারে।
ইতিহাস বলে, চুম্বন সব থেকে বেশি  জনপ্রিয় ছিল রোমানদের মধ্যে। রোমান ইতিহাসে আমরা তিন ধরনের চুম্বনের উল্লেখ পাই। প্রথমত, ‘‌অস্কিউলাম’‌, যে চুম্বন সাধারণত গালে করা হয়। নেহাতই সাদামাটা, বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসার প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, ‘‌বেসিয়াম’‌, যে চুম্বন ঠোঁটের উপর করা হয়। তাতে ভালোবাসার প্রকাশ আছে কিন্তু গভীরতা নেই। তৃতীয়ত, ‘‌সেভিয়াম’‌, ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে যে গভীর চুম্বন করা হয় এবং যাতে ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়।     
আজকের দিনে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বা প্রকৃত প্রেম যে ঠিক কী সেটাই ভুলতে বসেছে মানুষ। কয়েকদিনের সম্পর্কেই পরস্পরের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছে। দুজন প্রেমিক–প্রেমিকার মধ্যে ইগো, সন্দেহ, ক্ষোভ, ঈর্ষা জন্ম নিচ্ছে। যার ফলে ভাঙছে সম্পর্ক। সেখানে আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসের গুরুত্ব যেন আরও বেশি করে প্রকট হয়ে ওঠে। এই একটা আচরণের মাধ্যমেই যে অনেক কিছু না বলেও প্রকাশ করা যায়। কারণ প্রকৃত ভালোবাসায় জোর খাটে না। সেখানে ইগো, সন্দেহ, ক্ষোভ বা ঈর্ষার প্রশ্ন থাকে না। ভালোবাসার মানুষকে শুধুই ভালোবেসে কাছে টানুন আজ। আর তাঁর মনে এঁকে দিন নিজের ভালোবাসার ছোঁয়া। দেখবেন, পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু জোড়াই লাগবে না, অটুট হয়ে যাবে।  

জনপ্রিয়

Back To Top