সমীর দে, ঢাকা: মা ইলিশ রক্ষায় গত বুধবার থেকে বাংলাদেশে ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। এর মধ্যে ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুলারহাট থানা এলাকার একটি খালে ট্রলার ভিড়িয়ে মা ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ছুটে যান উপজেলা মৎস্য অফিসার–‌সহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যায় পুলিশ। প্রথমে পালানোর চেষ্টা করলেও, পরে পুলিশ মাছ–‌সহ ট্রলারটি আটক করে। নিষেধাদেশ উপেক্ষা করে মা ইলিশ কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয় আমির হোসেন, কাশেম, রাকিব ও জসিম নামের চার ব্যক্তিকেও। তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, প্রায় বিশ মন ইলিশ–‌সহ ট্রলারটি আটক করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মাছ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১২টি অনাথ আশ্রম ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে। আটক ট্রলারটি রাখা হয়েছে দুলারহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির জিম্মায়।
বুধবার দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত হাজিরহাট এলাকার কাংগটখালি কারিরপুল–‌লাগোয়া খালে ‘‌এফভি আল্লার দান’‌ নামে একটি ট্রলার ভিড়িয়ে প্রতি হালি মা ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা ট্রলার ছেড়ে পালায়।
এদিকে একই দিনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাজারে অবৈধ ভাবে বিক্রি করার সময় অভিযান চালিয়ে ইলিশ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে অভিযানের আগেই খবর পেয়ে বিক্রেতা ইলিশ ফেলে পালায়। বাজারে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান। ১৩ কেজি ইলিশ আটক করা হয়। মাসুদুর রহমান বলেন, বাজেয়াপ্ত মাছ অনাথ আশ্রমে বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ২২ দিন প্রজনন মরশুমে ইলিশ কেনা–‌বেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চলবে।

জনপ্রিয়

Back To Top