আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সে প্রায় ২০০ বছর আগের ঘটনা। এ গ্রামেও থাকত হাজার হাজার মানুষ। খেলে বেড়াত শিশুরা। ঘরকন্যা করতেন মহিলারা। কাজ করতেন, দিন শেষে গল্পগুজব করতেন পুরুষেরা। উৎসবে আমোদে মেতে উঠত গোটা গ্রাম।
 সেসব দু’‌শো বছর আগের ঘটনা। আজ এখানে শুধুই শূন্যতা। শূন্য গ্রামে পাক খেয়ে ফেরে একলা–বাতাস। ফিসফিস করে শুনিয়ে যায় কীসব। সরে যায় কোনও ছায়া। মাঝে মাঝে হেসে ওঠে কোনও শিশু। কখনও দেওয়ালে দেখা যায় হাতের ছাপ। কিন্তু কাউকে আর দেখা যায় না। এসবের ঠেলায় এ গ্রামে শতাধিক বছর কেউ পা রাখেননি। 
রাজস্থানের জয়সলমীরের কাছে কুলধারা গ্রাম। স্থানীয়রা বলেন ‘‌ভূত–গ্রাম’‌। আশপাশের ৮৫টি গ্রামের কেউ এখানে আসেন না। আসলেই নাকি গা ছমছম করে। শরীর বেয়ে দরদরিয়ে ঘাম নামে। এখানে পর্যটনের ব্যবস্থাও করেছিল রাজস্থান সরকার। তেমন সাড়া মেলেনি। 
শোনা যায়, ১২৯১ সালে এই কুলধারা গ্রামে বসবাস শুরু করেন পালিওয়ার ব্রাহ্মণরা। মরুভূমিতেও তাঁরা গম চাষ করতেন। লোকমুখে প্রচলিত, সেই সময় জয়সলমীরের দিওয়ান সলিম সিং কুলধারা গ্রামের প্রধানের মেয়ের প্রেমে পড়েন। তাঁকে বিয়ে করতে চান। প্রধানকে হুমকি দেন, বিয়ে না দিলে বড় মাপের খাজনা আরোপ করবেন। কিন্তু কুলধারা ও আশপাশের প্রায় ৮০টি গ্রামের লোকজন এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। তার পর এক দিন রাতারাতি সেই গ্রামের লোকরা উধাও হয়ে যান। কোথায় যান, কেউ জানে না। বলা হয়, সেই গ্রামের লোকদের ভূতই নাকি এখনও ঘুরে বেড়ায় এ গ্রামে।

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top