গবেষণাগারে তৈরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগে কোভিড থেকে সুস্থ হলেন প্রবীণ, এদেশে প্রথম

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গত বছর আমেরিকায় নির্বাচনের আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিন দুয়েক পরেই ছাড়া পেয়ে যান তিনি। কোনও বিধি না মেনেই দিব্য গটগটিয়ে বাড়ি ফেরেন। গোটা দুনিয়া হতবাক হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, কী এমন চিকিৎসা চলেছে, যাতে এত দ্রুত সুস্থ হয়েছেন ট্রাম্প। উত্তরটা হল ‘‌মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’। 
আদতে গবেষণাগারে তৈরি হয় এই অ্যান্টিবডি। এবার ভারতেও করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার হল সেই ‘‌মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’। এই প্রথম। তার জেরে শরীরে অন্য অনেক অসুখ থাকলেও (‌কোমর্বিডি)‌ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন হরিয়ানার অশীতিপর। হরিয়ানার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই বৃদ্ধের শরীরে প্রবেশ করান কৃত্রিম অ্যান্টিবডি।
হাসপাতালে চেয়ারম্যান নরেশ ট্রেহান জানালেন, ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ অর্থাৎ গবেষণাগারে তৈরি ওষুধের সংমিশ্রণ শরীরে অ্যান্টিবডির বিকল্প হিসেবে কাজ করে। কোভিড আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তোলে সেটি। আমেরিকা এবং ইউরোপে এই ওষুধের প্রয়োগ সবথেকে বেশি। কোভিড ধরা পড়ার প্রথম সাত দিনের মধ্যে ওই অ্যান্টিবডি মিশ্রণ শরীরে প্রয়োগ করা হলে ৭০–৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের আর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় না। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ প্রয়োগের ফলে রোগীর শরীরে কোনও প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কি না তা দেখা হবে। কোভিড রোগীর শরীরে ভাইরাল লোডের পরিমাণ অনেক সময় বেশি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম ওই ওষুধ। একেবারে প্রাথমিক স্তরেই ‘ক্যাসিরিভিম্যাব’ এবং ‘ইমডেভিম্যাব’ ওষুধ শরীরে প্রয়োগ করা হলে তা রোগীর কোষে ভাইরাসকে ঢুকতে বাধা দেয়। করোনার ভারতীয় প্রজাতিকেও অনায়াসে কাবু করতে পারে এই কৃত্রিম অ্যান্টিবডি।