আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ক্ষেতে জল আসে না বহু বছর। জলসেচের জন্য যে খাল ব্যবহার হত, তার আর সংস্কার হয়নি। তাই চাষাবাদ বন্ধ। একশো দিনের কাজের জন্য সরকারের দোরে দোরে ঘুরেছেন। লাভ হয়নি। শুধু ঘুরেই যেতে হয়েছে। এই লকডাউনের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অগত্যা নিজেরাই ব্যবস্থা করে নিলেন উত্তরপ্রদেশের বান্দার বাসিন্দারা। খাল সংস্কার করে ক্ষেতে নিয়ে এলেন জল। 
সব শুনে প্রশাসনের কর্তারা মজুরি দিতে চেয়েছিলেন। নারায়ণী তহশিলের নওগাভা গ্রামের বাসিন্দারা নিতে রাজি হননি। ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই টাকা। জানিয়েছেন, ফের নিজেরাই ফসল ফলিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেবেন। উদ্যোগের নাম দিয়েছেএন ‘‌শ্রমদান’‌। 
এককালে ভালই ফসল ফলত এই বান্দা গ্রামে। উর্বর ছিল জমি। কিন্তু গত চার বছর ধরে সংস্কার করা হয়নি গুহালা কালান থেকে ডিভলি গ্রাম পর্যন্ত কাটা সেচ খাল। এর দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার। ফলে ক্ষেতে আর জল আসে না। বন্ধ চাষবাস। খাল সংস্কারের আবেদন নিয়ে প্রশাসনের দফতরে অনেক ঘুরেছেন গ্রামবাসীরা। লাল ফিতের ফাঁস খোলেনি। 
শেষ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের আওতায় কাজ চেয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। তাও পাননি। শেষ পর্যন্ত ৭০ জন গ্রামবাসী নেমে পড়েন সংস্কারের কাজে। অন্যতম ছিলেন শ্যামলাল। বললেন, ‘‌উর্বর জমি ছিল। কিন্তু জলের অভাবে চাষাবাদ বন্ধ। বেকার বসেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে এই কাজে হাত লাগালাম। এখন চাষবাস করে খেতে পারব।’‌ 
খাল সংস্কারে যোগ দেওয়া আর এক গ্রামবাসী রামস্বরূপ বললেন, শুধু পুরুষ নয়, মহিলারাও এই ‘‌শ্রমদান’‌–এ সাহায্য করেছেন। গুলাবরানি, মমতা, সুমিত্রারা খাবার তৈরি করে এনে দিয়েছেন এই স্বেচ্ছা–শ্রমিকদের জন্য। রান্নাঘরের নাম দিয়েছেন ‘‌শ্রমদান রাসোই’‌। বান্দায় সেচ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার শারদ সিং এই উদ্যোগের দারুঁ প্রশংসা করেছেন। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top