আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমফানের পর এক মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু সুন্দরবন এখনও সেই তিমিরেই। বহু মানুষ আজও ঘরছাড়া। খোলা ছাদের নীচেই রাত কাটাচ্ছেন। আধপেটা খেয়ে। দুর্ভোগ বাড়িয়েছে কোভিড আতঙ্ক। পা রাখতে চাইছেন না অনেক ত্রাণকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চিকিৎসকও মেলা ভার। তা বলে তিনি পিছপা হননি। রোজ চলে আসছেন আমফান–বিধ্বস্ত এলাকায়। চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা। কখনও নৌকাতেই বসাচ্ছেন চেম্বার। তিনি ডা.‌ অজয় মিস্ত্রি।  
ভোর তিনটেয় রোজ কলকাতা থেকে রওনা হচ্ছেন সুন্দরবনের দিকে। সঙ্গে থাকেন ১৫ জন সহকারী আর চার জন চিকিৎসক। কোভিড আতঙ্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিকিৎসা করে চলেছেন আমফান পীড়িতদের। শুধু চিকিৎসা নয়, ওষুধ আর ত্রাণও বিলি করছে। 
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত জায়গায় যেতে গেলে অনেক সময় নৌকাই ভরসা। সেই নৌকায় চেপেই ডা.‌ মিস্ত্রি সহকারীদের নিয়ে রোজ চলে যান গ্রামের পর গ্রাম। ঘুরে দেখেন, কার চিকিৎসার প্রয়োজন। অবশ্য তাঁর পক্ষে এমনটাই স্বাভাবিক। কারণ তিনি হলেন সুভাষিনী মিস্ত্রির ছেলে। এই সুভাষিনীই সবজি বিক্রির টাকা জমিয়ে দুস্থদের জন্য হাসপাতাল গড়েছিলেন। পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন তিনি।
সুভাষিনী দেবীর সেই হাসপাতালের একটি শাখা সুন্দরবনেও রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগণা ঘুরেই চিকিৎসা করেন। প্রত্যন্ত গ্রামে, সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত নেই, সেখানেও দলবল নিয়ে পৌঁছে যান অজয়বাবু। হাঁসপুকুরে তাঁদের মূল হাসপাতাল এখন কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা এখন প্রত্যন্ত গ্রামে ঘুরে চিকিৎসা করছেন। 
  

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top