আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কোভিডে যতটা ভয় প্রবীণদের রয়েছে, শিশুদের ততটাও নয়। সেটা শ্বাসযন্ত্রের গঠনগত কারণে। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের এমনটাই মত। তা বলে নিশ্চিন্ত হওয়ার কিছু নেই। কারণ প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে কোভিড প্রাণ নেবে কয়েক লক্ষ শিশুর। তাও শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই। বলছে ইউনিসেফ।
কোভিড আতঙ্কে শিশু কল্যাণের কাজ বিশ বাঁও জলে। দেওয়া হচ্ছে না পোলিও সহ একাধিক রোগের প্রতিষেধক। বন্ধ সরকারি স্কুল। মিড ডে মিল থেকে বঞ্চিত বহু শিশু। এর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তো রয়েইছে। কোভিডের জেরে লকডাউনের কারণে রুজি রোজগার বন্ধ কোটি কোটি মানুষের। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সন্তানদের মুখেও উঠছে না অন্ন। অনাহার এখন তাদের নিত্যসঙ্গি।
ইউনিসেফ একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাতে বলছে, কোভিডের পরোক্ষ প্রভাবে প্রতিদিন ২,৪০০ শিশুর প্রাণ যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ায়। আগামী এক বছরে প্রাণ যাবে ৮ লক্ষ ৮১ হাজার শিশুর। এদের বয়স পাঁচ বছর বা তার কম। অন্তত ৩৬ হাজার মারও প্রাণ যেতে চলেছে। সবথেকে বেশি মৃত্যু হবে ভারত, পাকিস্তানে। এর পরেই থাকছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান। সর্বত্রই ছবিটা কমবেশি একই রকম। এসব দেশের সরকার এখনই কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না করলে অবস্থা আরও শোচনীয় হবে। 
দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পল রাটার জানালেন, করোনা ভাইরাস সরাসরি শিশুদের ততটাও ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু ওই আতঙ্কে শিশুদের রুটিন স্বাস্থ্য পরিষেবা, কল্যাণকর যোজনাগুলোর বেহাল দশা। ওষুধ, প্রতিষেধক থেকে বঞ্চিত ওরা। অনাহারে, অপুষ্টিতে ভুগছে। এর ফল ভুগবে ওদের স্বাস্থ্য। দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফ–এর প্রাদেশিক অধিকর্তা জাঁ গগও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য সেযব উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, এই ক’‌মাসের লকডাউনে সেগুলোই ধাক্কা খাবে। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top