অভিজিৎ বসাক: রাজ্য সরকারের লাগাতার প্রচার এবং বিক্রেতাদের সচেতনতা বৃদ্ধি— এই দুইয়ে ভর করে আবার স্বাভাবিক মুরগির মাংসের বিক্রি। ভাগাড়–কাণ্ডের জেরে বিক্রি কমে গিয়েছিল। সরকারি বিপণি থেকে পাড়ার দোকান, শপিং মল— বিক্রি ধাক্কা খেয়েছিল সব জায়গায়। কোথাও কোথাও চাহিদা কমে গিয়েছিল ৫০ শতাংশ। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। কাবাব থেকে নাগেট, সালামি হোক বা পাড়ার দোকানের বিরিয়ানি, চিলি চিকেন— আবার আগের মতো দেদার খাচ্ছে বাঙালি। ব্যবসায়ীরা যদিও জানাচ্ছেন, শ্রাবণ মাসে মুরগির মাংসের বিক্রি তুলনায় কম থাকে।
পচা মাংস বিক্রি এবং গুজব বন্ধ করতে প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছিল মুরগির মাংস বিক্রেতাদের সংগঠন এবং ব্যবসায়ীরা। গুজব ঠেকাতে রাজ্য প্রচারও শুরু করেছিল। তাতে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, নুসরত জাহান। তাঁদের বার্তা ছিল, ‘‌গুজব নিয়ে সতর্ক থাকুন’‌। দেখা যাচ্ছে সেই কর্মসূচি সফল। সরকারি–বেসরকারি দোকানে মুরগির মাংসের বিক্রির পরিসংখ্যান তেমনই বলছে।
ভাগাড়–কাণ্ডের পর রাজ্য প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নিগমের মুরগির মাংস বিক্রিতেও প্রভাব পড়েছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে চাহিদা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে নিগম প্রায় ২ কোটি টাকার মাংস বিক্রি করেছিল। এ বছর এপ্রিলে তা কমে হয়েছিল ১.‌১ কোটি টাকা। মে মাসে বিক্রি ছিল ১ কোটির। তবে নিগমের বিশ্বাসযোগ্যতার জেরে সেসব সামাল দেওয়া গেছে। চলতি বছর জুনে বিক্রির অঙ্ক পৌঁছেছে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকায়। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌরীশঙ্কর কোনার জানান, পরীক্ষার জন্য নিগমের বিপণি থেকে নমুনা নিয়ে গিয়েছিল প্রশাসন। খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। মানুষের ভীতি অনেকটাই কেটেছে। তাঁরা বুঝেছেন, এফএসএসএআই চিহ্নিত, ব্র্যান্ডেড পণ্য গুণমানে অনেক ভাল। তবে পাশাপাশিই তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ে মাসের বিক্রি এমনিতেই একটু কম থাকে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি জানান, রাজ্যে সপ্তাহে সাধারণত ২.২ কোটি কেজির মুরগির মাংসের দরকার পড়ে। ভাগাড়–কাণ্ডের সময় তা কমে দাঁড়িয়েছিল ১.‌৫–১.‌৬ কোটি কেজিতে। এখন আবার আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। ‌কীভাবে মানুষের ভরসা ফিরল?‌ মদনমোহনের জবাব, ‘দু–একজনের বিরুদ্ধে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল ঠিক কথা। কিন্তু সবাই তো তা করেননি। ফেডারেশনের কর্মীরা দোকানে দোকানে গিয়ে সে কথাই ক্রেতাদের বুঝিয়েছেন। এখন আর প্রচারের দরকার পড়ছে না। আমরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন।’
কলকাতায় ১০০–র বেশি দোকান রয়েছে ‘আরামবাগ চিকেন’–এর। সারা রাজ্যে রয়েছে ১২৫টি। ভাগাড়–কাণ্ডে কলকাতা এবং জেলার দোকানে কমে গিয়েছিল বিক্রি। তখন প্রতিটি দোকানে মাংস উৎপাদনের ভিডিও দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। লক্ষ্য— ক্রেতাদের ভরসা ফেরানো এবং নিজেদের সুনাম বজায় রাখা। সংস্থার অধিকর্তা সুখামৃত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেছে। অনেক ছোট রেস্তোরাঁর মালিককে নতুন ক্রেতা হিসেবে পেয়েছি। মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন। তাঁরা চাইছেন সেরা জিনিস কিনতে। দিনকয়েক আগে শিককাবাব এনেছি। প্রচুর মানুষ তা কিনছেন। নতুন পদ জনপ্রিয় হওয়ায় বুঝতে পারছি পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভাল হয়েছে।’ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top