আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দিল্লির ঘুপচি বস্তি। সেখানেই দু’‌টো কামরায় গাদাগাদি করে থাকে পরমেশ্বরের পরিবার। এক–আধ জন নয়। ন’‌জন। সেই কামরাতে থেকেই দ্বাদশ শ্রেণীর সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষায় ৯১.‌৯ শতাংশ নম্বর পেল ১৭ বছরের পরমেশ্বর। 
রাস্তাটা সহজ ছিল না। খিদে নিত্যসঙ্গি। পরমেশ্বরের বাবার বয়স ৬২ বছর। হার্টের রোগী। কাজকর্ম করতে পারেন না। বাকি ভাই–বোনেরা কোনও মতে কাজ করে সংসার চালান। তাতে দু’‌বেলা খাবার জোটে। কিন্তু বাকি খরচ চালানো যায় না। তাই পড়ার খরচ নিজেকেই জোগাতে হয়েছে পরমেশ্বরের। তার কথায়, ‘‌ওদের ওপর কত চাপ দেব!‌’‌
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে কাজ শুরু করে সে। সেই খানপুরে গাড়ি ধোওয়ানোর কাজ নেয়। তাতে মাসে ৩,০০০ টাকা আয় হয়। সেই দিয়েই বই আর স্কুল ইউনিফর্মের খরচ ওঠে। সকালে স্কুল রয়েছে। তাই ভোর চারটে উঠে কাজে বেরিয়ে যায় পরমেশ্বর। সপ্তাহে ছ’‌দিন এই রুটিন। দিল্লির তীব্র শীতেও অন্যথা হয় না। 
শীতের ভোরে সবাই যখন লেপের নীচে ঘুমায়, পরমেশ্বর তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। আধ ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছতে হয় কর্মস্থনে। ওই ঠান্ডায় ঠান্ডা জল দিয়েই শুরু হয় কাজ। তার কথায়, ‘‌কাজটা সহজ নয়। জল ধরলেই পাঁচ মিনিট অন্তর হাতটা ঠান্ডায় জমে যেত। অবশ হয়ে যেত।’ অথচ কয়েকশো টাকার জন্য মানুষ অপমান করে যেত। যা খুশি বলত, আক্ষেপ পরমেশ্বরের। ‌
এ রকমই চলছিল। পাশাপাশি পড়াও চলছিল। তার মধ্যেই মার্চে পরমেশ্বরের বাবার হার্টের অস্ত্রোপচার হয়। রাতদিন বাবার কাছেই হাসপাতালে থাকত সে। সেখানে পড়াশোনা করেই হিন্দি পরীক্ষা দিতে গেছিল। তার পরেও ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর। এখন ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে স্নাতক পড়তে চায় সে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অনলাইনে ফর্ম তুলে সাহায্য করছে তাকে। পরমেশ্বরের স্বপ্ন একটাই, শিক্ষক হবে। ‘‌যাদের টিউশন নেওয়ার বা পড়াশোনা চালানোর ক্ষমতা নেই, তাদের পড়াতে চাই।’‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top