‌অপ্রমেয় দত্তগুপ্ত: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই ঘুঁটি সাজাতে তৎপর হচ্ছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই রাজ্যে অমিত শাহ এসে ২২টি আসনের টার্গেট দিয়েছেন। যদিও বাংলায় ৪২টি আসনেই নিজেদের প্রার্থী দেবে গেরুয়া শিবির। পঞ্চায়েতে মুকুল রায় ভাল কাজ করেছে বলে মনে করছে বিজেপি। সেই কারনেই এবার লোকসভা নির্বাচনে মুকুল রায়কে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। তবে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হলে মুকুল রায় বাংলার কোন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। মুকুলের ভোটে দাঁড়ানোর সম্ভাব্য পাঁচটি কেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। 
বসিরহাট কেন্দ্র: মুকুল রায়ের প্রার্থী হওয়ার তালিকায় সম্ভাব্য প্রথম কেন্দ্র হল বসিরহাট। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বসিরহাটে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপিকে। এবার সেখান নিজেদের দলকে আরও চাঙ্গা করতে মুকুল রায়কে বিজেপি নেতৃত্ব নামাতে পারে।
বারাসত কেন্দ্র: তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হল বারাসাত। সেখানে মুকুল রায়কে প্রার্থী করা যেতে পারে বলে বিজেপির অন্দরের খবর। কারণ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে বারাসাত বেশ কিছুটা বড় এলাকা। সেখানে শাসকদলের বিপরীতে মুকুল রায়কে নামাতে পারে বলে গেরুয়া শিবির।
ব্যারাকপুর কেন্দ্র: পরবর্তী সম্ভাব্য কেন্দ্র হল ব্যারাকপুর। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়কে দিয়ে ব্যারাকপুরের মতো শক্তিশালী এলাকায় গেরুয়া শিবির পদ্ম ফোটানোর চেষ্টা করতে পারে।
কৃষ্ণনগর কেন্দ্র: মুকুল রায়ের প্রার্থী হওয়ার তালিকায় রয়েছে কৃষ্ণনগরের নামও। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের বিরুদ্ধে সেখানে ভাল ফল করতে পারেনি বিজেপি। তাই মুকুল রায়কে দিয়ে সেখানে নিজেদের দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি।
উত্তরবঙ্গের একটি কেন্দ্র থেকেও মুকুল রায়কে দাঁড় করাবার কথা ভাবছে বিজেপি। কারণ বিমল গুরুং জমানার অবসান হওয়ায় সেখানে বিজেপির রাশ হালকা হয়ে গিয়েছে। আবার দার্জিলিংয়ে লাগাতার বন্‌ধ চলাকালীন প্রশ্ন উঠেছে সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার ভূমিকা নিয়ে। তাই প্রার্থী পরিবর্তন করে এখান থেকে মুকুল রায়কে দাঁড় করিয়ে চমক দিতে চায় বিজেপি। অন্যদিকে পাহাড়ে শাসকদলের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। সেজন্যই ম্যাজিককে কাজে লাগিয়ে পাহাড় ধরে রাখতে চায় পদ্ম শিবির বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top