‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নজিরবিহীন ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ। গতি রবিবার রামিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর হত্যার বিচার চাইতে রাজপথে নেমেছেন বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন সাধারণ নাগরিকরাও। শুধু এই দুর্ঘটনাই নয়, বিক্ষোভে উঠে এসেছে গত এপ্রিলে দুই বাসের রেষারেষিতে প্রথমে হাত ও পরে প্রাণ হারানো কলেজছাত্র মহম্মদ রাজীব হোসেনের নামও। বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ডে রয়েছে হানিফ পরিবহনের গাড়িচালক, তাঁর সহকারী ও সুপারভাইজার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রকে খুন করেছিল, সেই সইদুর রহমানের ছবি। এ দুই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, রবিবার নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া খানম (মীম) ও আবদুল করিমের (রাজীব) ছবিও। প্রশাসন ও সরকারের একাংশ পড়ুয়াদের আন্দোলন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সেই আবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন পড়ুআরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, ‘‌আমরা ন’‌টাকায় এক জিবি ডেটা চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই।’ বিক্ষোভকারীদের সবচেয়ে তীব্র ক্ষোভের নিশানায় রয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। তাঁদের বক্তব্য, শাহজাহান খান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনও উদ্যোগ নেননি।
এদিকে ঘাতক বাসের চালক মাসুমবিল্লাহর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছিল, জাবালে নূর পরিবহনের চার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ঘাতক চালক নাকি অধরা। তবে র‍্যাবের সূত্রে জানানো হয়, ঘাতক চালক মাসুমবিল্লাহকে তারা আটক করেছে। বুধবার সকালে ঢাকা পুলিশ মাসুমবিল্লাহকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। পাশাপাশি বাসটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের জানাতে চাই, আমরাও এই ঘটনায় ব্যথিত। তোমাদের তোমাদের দাবি সবই মানা হচ্ছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, আইন অনুযায়ী তাদের সাজা দেওয়া হবে। তোমরা আন্দোলনের পথ থেকে সরে এসো। কারণ, এই আন্দোলনের ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে। সারা শহর অচল হয়ে যাচ্ছে, যা কাম্য নয়। 
আসাদুজ্জমান আরও জানান, গত তিন দিনে ৩০৯টি গাড়ি ভাঙা হয়েছে, পোড়ানো হয়েছে আটটি গাড়ি। ২৯ জুলাই ১৫০টি গাড়ি ভাঙা হয়েছে, ৩০ তারিখে ২৫টি গাড়ি ভাঙা হয়েছে এবং ৩১ তারিখে ১৩৪টি গাড়ি ভাঙা হয়েছে। পোড়ানো হয়েছে ৮টি গাড়ি। এর মধ্যে পুলিশের দু’‌টি, ফায়ার সার্ভিসের ১টি। ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‌তিন দিন হল, আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় নেমেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চান, আমাদের প্রিয় সন্তানেরা রাস্তা থেকে ফিরে আসুক। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক।’
কিন্তু এই আবেদনে এখনও সাড়া দেননি পড়ুয়ারা। উল্টে তাঁরা নিজেই রাস্তায় গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন। অ্যাম্বুল্যান্সকে যেতে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। লাইসেন্স না থাকায় দু’‌টি বাস আটকে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ির চালক লাইসেন্স দেখাতে না পারায় সেই গাড়িটিও আটকে দেওয়া হয়েছে।
গোটা ঘটনার জেরে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টরাও। অভিনেতা তৌসিফ মেহবুব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‌আর চুপ থাকতে পারছি না। শুটিং থেকে ছুটি নিলাম, দুপুরে তোমাদের সঙ্গে রাস্তায় নামছি।’‌ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মাকসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন, এ নতুন কোনও বিষয় নয়। আমরা প্রতিবাদ তো দূরের কথা, একটি শব্দও করিনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যা, তাতে সরকারই দায়ী। প্রতিবাদীদের বয়স
 আমাদের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু মেধা, মনন ও ব্যবহারে আমাদের চেয়ে ওরা অনেক উচ্চমার্গে বসবাস করে। ওঁদের সম্মান দিন।’‌ পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেছেন, ‘রাষ্ট্র প্লিজ থামুন। ওরা বাচ্চা। ওরা সবেমাত্র স্কুলছাত্র। ওরা আমাদের সন্তান। ওরা ধান্দাবাজ রাজনীতিক না। ওরা বন্ধু হত্যার বিচার চায়। ওরা সড়কে জীবনের নিরাপত্তা চায়। এটা ওদের অপরাধ?’

জনপ্রিয়

Back To Top