আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গ্রামে শিখ সম্প্রদায়ের কোনও বাসিন্দা নেই। তাই হিন্দুরাই গত ৭০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকা গুরুদ্বারের দরজা খুলে, সেটি সংস্কার করালেন। আর গ্রামের মুসলিমরা গুরুদ্বার সাজিয়ে সেখানে লঙ্গরখানার আয়োজন করলেন। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সুক্কুর জেলার সালহেপত এলাকার জানোজি গ্রামে। পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিলের সদস্য দেবা সিকান্দর জানালেন, দেশভাগের পর থেকেই বাবা নানক গুরুদ্বারের দরজা বন্ধ ছিল। জানোজি গ্রাম বা সংলগ্ন অঞ্চলে কোনও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন না থাকায় সেটি খোলার চেষ্টাও করেনি কেউ এতদিন। গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অবশেষে গুরুদ্বারটি খোলার উদ্যোগ নেন সংলগ্ন অঞ্চলের হিন্দু এবং মুসলিম মানুষরাই। এজন্য তৈরি হয় নানক নাম লেওয়া সঙ্গত নামে নানকভক্তদের একটি সংগঠন। সিকান্দর আরও জানান, সুক্কুর এবং খৈরপুর জেলার হিন্দুরা প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দান করেছেন দুকামরার ওই গুরুদ্বারটি সংস্কারের জন্য। এছাড়া পিপিপি নেতা সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ দান করেন দু’‌লক্ষ টাকা। সংস্কারের পর শুক্রবার নতুন করে খোলা হয় গুরুদ্বারের দরজা। নবরূপে গুরুদ্বার উদ্বোধনের দিন সেটি ফুল–মালায় সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন জানোজি এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মুসলিম বাসিন্দারা। তাঁরাই গুরুদ্বারে আসা ভক্তদের জন্য কড়াই প্রসাদ এবং লঙ্গরে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। গুরুদ্বারে শিখদের ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থসাহেব ছাড়াও রাখা হয়েছে ভগবৎ গীতা। তবে যতদিন না বাবা নানক গুরুদ্বারের নিজস্ব গ্রন্থ সাহেব আসছে, ততদিন এই গ্রন্থ সাহেবটি সালেহপতের প্রধান গুরুদ্বারেই দিন কয়েক পর ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং একবছর পর নানক পূর্ণিমার আগে ফের আনা হবে। এখনও গুরুদ্বারে এখনও সেভাবে উদ্বোধনের দিন শিখদের প্রার্থনা সঙ্গীতের সঙ্গেই মঙ্গলারতি করা হয়। গুরুদ্বারটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখন থেকে সেখানে একজন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।        

জনপ্রিয়

Back To Top