আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লোহার থালায় খেলে নাকি মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়!‌ মাইক্রোওভেনে গরম করা খাবার খেলে নাকি  স্মরণশক্তি ও একাগ্রতা কমে যায়!‌ আবার কাঁসার পাত্রে খেলে চড়চড়িয়ে বাড়ে বুদ্ধি!‌ এরকমই নানা অবৈজ্ঞানিক পরামর্শ শিষ্যদের দিত আসারাম বাপু। বুধবার দক্ষিণ সোনারপুরের পাঁচপোতা এলাকার রানাভুতিয়া গ্রামে হানা দিয়েছিল আজকাল ডট ইন। সেখান থেকেই আজকাল ডট ইনের হাতে আসে ধর্ষণের দায়ে দোষী প্রমাণিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর একাধিক পুস্তিকা ও সিডি। কী নেই সেই পুস্তিকায়?‌ ছত্রে ছত্রে যুক্তিহীন, অবৈজ্ঞানিক দাবি ও উপদেশ তো রয়েইছে। আর রয়েছে ধর্ষক আসারামের পক্ষে বিজেপি–র তাবড় তাবড় হেভিওয়েট নেতাদের ঢালাও দরাজ সার্টিফিকেট। পুস্তিকায় লালকৃষ্ণ আদবানি, নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যমাথের মতো বিজেপি নেতাদের আসারামের আশীর্বাদ নিতে দেখা গিয়েছে।

আর একধাপ এগিয়ে আসারাম বাপুর কাজকর্মের ঢালাও প্রশংসা করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ, বিজয় রূপানী, কেশবপ্রসাদ মৌর্য, কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং সর্বানন্দ সোনোওয়ালের মতো বিজেপি নেতারা। আসারামের পুস্তিকায় চন্দ্রশেখর রাও কিংবা এইচ ডি দেবেগৌড়ার মতো অ–বিজেপি নেতাদের ছবি দেখা গিয়েছে বটে। তবে বিজেপি নেতাদের ছবির ভিড়ে অবিজেপি নেতাদের চোখে পড়ে না বললেই চলে।
কতখানি অবৈজ্ঞানিক আসারামের উপদেশ?‌ কিছু উদাহরণ আরও দেওয়া যাক। ‘‌নেশা থেকে সাবধান’‌ পুস্তিকায় ১৬ নং পাতায় দাবি করা হয়েছে, মাছ মাংস খেলে নাকি শরীর খারাপ হয়। যিনি নিরামিষ খান, তাঁকে নাকি কোনও রোগ স্পর্শ করতে পারে না। ১৮ নং পাতায় দাবি করা হয়েছে, জর্দার নেশা করলে মহিলাদের মধ্যে উনুনে থুতু ফেলার অভ্যাস তৈরি হয়।

আবার ওই পুস্তিকারই ৩০ নং পাতায় দাবি করা হয়েছে, সিনেমা দেখলে শরীর খারাপ হয়। শুধু শরীর সুস্থ রাখার উপদেশই নয়, আর্থিক সামর্থ্য বাড়ানোর জন্যও তাঁর ভক্তদের নানা আজগুবি উপদেশ দিয়েছেন আসারাম। ‘‌ঋষিপ্রসাদ’‌ পুস্তিকার ৩৪ নং পাতায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শুলে নাকি আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়। ওই একই পাতাতে আর এক অবৈজ্ঞানিক দাবি হল, ফাস্ট ফুড খেলে নাকি কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে হস্তমৈথুনের প্রবণতা বাড়ে!‌ 
নিজের অলৌলিক ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে দুই ভক্তের মোবাইল নাম্বার সহ সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করা হয়েছে ওই পুস্তিকায়। যেখানে জনৈক রবি যাদবের বয়ানে আসারামের অলৌকিক ক্ষমতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আজকাল ডট ইনের তরফে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, নম্বরটির কোনও অস্তিত্বই নেই।

 
অথচ এই ভণ্ডবাবার সমর্থনেও মুখ খুলেছিলেন একাধিক নেতা। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে ‘‌আসারাম বাপু ‌খতরা ইয়া সাজিশ’‌ পুস্তিকার ১২ পাতায়। সেখানে সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, ‘‌আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে, সেটা আমি পড়েছি। আমার মনে হয় না আসারাম ধর্ষণ করেছে।’‌ পুস্তিকার চতুর্থ পাতায় এলাহাবাদের বিজেপি সাংসদ শ্যামাচরণ গুপ্তার দাবি, ‘‌আসারামকে এই বয়সে বিরক্ত করা হচ্ছে। এটা উচিত নয়। উনি এমন কাজ করতে পারেন না।’‌ ৫ নং পাতায় হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির নেতা রমেশ শিন্ডেও আসারামের মুক্তির দাবি করেছেন।

 

 

 

‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top