আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের নারীরাই প্রবেশ করতে পারবে বলে রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সু্প্রিম কোর্ট। সেখানে মুম্বইবাসী বাঙালি শিল্পী অনিকেত মিত্রও তার ব্যতিক্রম নন। দুর্গাপুজো এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনকে মিলিয়ে দিয়ে একটি শিল্পই করেছেন তিনি। তা ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। ফলে তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
দুর্গার আটচালায় দুর্গার বদলে স্যানিটারি ন্যাপকিন। সেখানে ঋতুমতীর রক্তে একটি লাল গোলাপ আঁকা। ছবিটা আপাতদৃষ্টিতে ছিল এমনটাই। প্রাথমিকভাবে তা প্রভূত প্রশংসা কুড়োলেও বিভিন্নমহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এধরণের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না বলেই অনেকে মনে করেন। যা দেখা গেল সৌরাংশু বিশ্বাস নামের একজনের মন্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘‌এমনটা যদি দক্ষিণ ভারতে হতো তাহলে অনিকেতের হাত কেটে ফেলত ওখানকার মানুষ। আমরা বাঙালিরা খুবই সহিষ্ণু। তাই এগুলো সহ্য করি। কিন্তু এটা আমাদের মা দুর্গাকে অপমান এবং আমরা সেটা কোনওভাবেই সহ্য করব না।’‌
‘‌এখন আর মন্তব্য করার আগে কেউ একটুও ভেবে দেখে না। তাদের কেবল একটা হিন্দু সংস্করণ, একটা মুসলমান সংস্করণ এবং একটা খৃষ্টান সংস্করণ দরকার।’‌ বলেন শিঞ্জনা দাস নামের আর একজন মহিলা। জীতাংশু শর্মা নামে একজন শিল্পীকে সমর্থন করে লেখেন, ‘‌এখনও মানুষ সত্যিটা মেনে নিতে ভয় পায়। এমন একটি ভাবনার জন্য আপনাকে কুর্নিশ। বির্ভয়ে থাকুন।’‌
কিন্তু এই ছবিটি যাঁর তৈরি, সেই অনিকেত মিত্র কী বলছেন? ‘‌দেখুন, আমার মনে হয় কলকাতা পুলিস যথেষ্ট পরিণত একটি প্রশাসক দল। কিছু মানুষ আমায় মেসেঞ্জারে এসে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করলেন, কিছু মানুষ কলকাতা পুলিসের ফেসবুক পেজে গিয়ে আমার নামে রিপোর্ট করলেন। কিন্তু পুলিসের তরফে আমাকে কিছুই বলা হয়নি, আমার ধারণা ওনারা বিষয়টির গুরুত্ব নিশ্চিত বুঝেছেন। ক্রমাগত মানসিক এবং মৌখিক আক্রমণের পর আমি বাধ্য হই ছবিটি সরিয়ে দিতে। কারণ, ছবিটির ব্যাপারে অনেক অভিযোগ ফেসবুকে করা হচ্ছিল। আমি একজন শিল্পী, আমার কাজ প্রতিবাদের ভাষা। প্রতি মুহূর্তে চোখের সামনে ঘটে চলা সোশ্যাল ট্যাবুর আড়ালে নারীর উপর চলা অন্যায়ের প্রতিবাদ আমি করেছি। মা দূর্গা দেবী হলেও উনি একজন নারী। একজন ঋতুমতী নারী। উৎসবের চারদিন, সকলের থেকে দূরে থাকবেন, কোনও পুজোয় অংশ নিতে পারবেন না এ কেমন কথা। ধর্ম চেতনা এতটা ঠুনকো কোনও কারণেই হতে পারে না। লড়াই, সেই অধিকারের জন্য।
আমাকে ও আমার পরিবারকে ব্যাক্তিগত আক্রমণের সামনে দাঁড় করিয়ে বলা হয়েছে আমি ধর্মদ্রোহী। যদি সত্যি বলা দ্রোহ হয়, তাহলে আমি তাই। কিন্তু যে নিয়ম নারীর নারীত্ব অস্বীকার করে, সেই নিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়ানো কর্তব্য। উৎসবে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, কিন্তু একটি মেয়ে প্যান্ডেলে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডি মেশিন কি এক্সপেক্ট করতে পারে না?‌ নাকি সেটা পাপ, আপনারই বলুন।’‌

 

জনপ্রিয়

Back To Top