আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দশম শ্রেণীর পর স্কুল ছেড়েছিলেন। এর পর চাইলেও পড়াশোনা এগোয়নি। সংসারের চাপে। তা বলে হাল ছাড়েননি। সন্তানরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছেন। ঘরে দুই নাতি–নাতনি। অদম্য উৎসাহেই ফের স্কুলে নাম লেখালেন ৫০ বছরের ‘‌সিঙ্গল মাদার’‌। এবার দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় পাশও করলেন মেঘালয়ের লাকিনটিউ সিয়েমলিয়ে। 
সোমবার মেঘালয় বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন–এর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। ২৪ হাজার ২৬৭ জন পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষায় পাশ করেছেন দেখে উচ্ছ্বসিত লাকিনটিউ। আনন্দে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছেন ছেলে–মেয়েও। লাকিনটিউ বললেন, ‘‌ওঁরা চিৎকার করছে। বারবার জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে আমায়।’‌ এর মধ্যেই ঠিক করে ফেলেছেন প্রৌঢ়া, খাসি ভাষা নিয়ে স্নাতক পড়বেন। পড়াশোনা এখানেই থামাবেন না। তিনি বললেন, ‘‌এই বয়সে এসে পড়াশোনার গুরুত্বটা বুঝেছি। শিক্ষা ছাড়া আমাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।’‌
১৯৮৯ সালে স্কুল ছেড়ে দেন লাকিনটিউ। অঙ্কে খুব ভয় পেতেন। কিছুতেই পারতেন না। তাই আর পড়া এগোয়নি। ২১ বছর বয়সে বিয়ে। তার পর চার সন্তান। পরে যখন ভুল বুঝেছিলেন, সংসারের চাপে আর পারেননি। এর পর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। লাকিনটিউয়ের ঘাড়ের আসে সংসারের দায়িত্ব। চার ছেলে–মেয়েকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য গ্রামের এক স্কুলে বাচ্চাদের খাসি পড়ানোর চাকরি নেন। 
এখন চার ছেলেমেয়েই প্রতিষ্ঠিত। এক ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে থাকেন লাকিনটিউ। সঙ্গে থাকে দুই নাতি–নাতনি। তাদের সামনে দিয়েই রোজ ইউনিফর্ম পরে স্কুল গেছেন। ৩০ বছরের ছোট ছেলেমেয়ের সঙ্গে এক বেঞ্চে বসে পড়াশোনা করেছেন। সহপাঠীরা তাঁকে ডাকে ‘‌মেই’‌। খাসি ভাষায় মা। এবার কলেজে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দিদিমা।   

 

জনপ্রিয়

Back To Top