আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক চেষ্টা গত কয়েক দিনে অনেকটাই সফল হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি একটি শান্তি চুক্তি সই হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই আলোচনার মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা হরমোজগান প্রদেশে একটি ইজরায়েলি গুপ্তচর ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
সূত্রের খবর, মধ্যস্থতাকারীরা এমন একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছেন যাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো যায়। আর এটা হলে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
জানা গিয়েছে, পরমাণু আলোচনার জন্য তেহরান দু’মাসের সময় দিয়েছে। অন্য দিকে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং আমেরিকার নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আরও ৩০ দিনের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই শান্তি চুক্তি এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতে এসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হয়তো কোনও ‘ভালো খবর’ পাওয়া যেতে পারে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনাতেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবার এই মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকে বসছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি “মোটামুটি তৈরি” হয়ে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে ঘোষণা করা হতে পারে। বিশ্ব বাজারকে শান্ত করতে এবং হরমুজ প্রণালী খোলার রাস্তা তৈরি করতে পাকিস্তান এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ৬০ দিন বাড়াতে এবং ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় সফল। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো জটিল বিষয়গুলি দুই দেশ কীভাবে মেটায়, সেটাই বড় প্রশ্ন।
শনিবার দিল্লিতে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-ও সমাধানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।” আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বড় কোনও ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমেরিকার কড়া অবস্থানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রুবিও। তাঁর কথায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই এই ধরনের সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান চান।”
শান্তির আশা আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা ও ইরান সমাধানের খুব কাছে চলে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি প্রথমে পরিস্থিতিকে “৫০-৫০” (হয় যুদ্ধ, না হয় চুক্তি) বলে বর্ণনা করলেও, পরে বলেন যে দুই পক্ষই চুক্তির “অনেক কাছাকাছি” চলে এসেছে।
এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানোর অপরাধে এক যুবককে গুলি করে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। অভিযুক্তের নাম নাজিরে বেস্ট (২১)।
জানা গিয়েছে, ওই যুবক বেশ কিছুক্ষণ রাস্তা ধরে পায়চারি করার পর আচমকাই একটি পুলিশ চেকপোস্টের দিকে এগিয়ে যান। এরপর ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভিতরেই ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।















