আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষমেশ পিছু হঠল উত্তরাখণ্ড সরকার। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজ্যের প্রায় ৩,০০০ গাছ কাটা হবে বলে যে ঘোষণা করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। এ বিষয়ে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

উত্তরাখণ্ডের ২০ কোটি কিমি দীর্ঘ ঋষিকেশ-ভানিয়াওয়ালা চার লেনের সড়ক চওড়া করার জন্য একটি প্রকল্পের কাজ করছে সরকার। সে জন্য রাজাজি জাতীয় উদ্যানের হাতি করিডোরে ৩,০০০ গাছ কাটতে হবে। তা নিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বার সেই প্রতিবাদের মুখে পড়েই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সকলের সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত গাছ কাটা বন্ধ থাকবে।

 

 

মুখ্যমন্ত্রী ধামী বলেন, "উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ- একে অপরের পরিপূরক। তাই জনগণের আবেগ, পরিবেশগত ঝুঁকি বা স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। রাজ্যের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রাচুর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে সরকার দায়বদ্ধ।"

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি প্রধান সচিব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন করে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা হয়। ধামী বলেন, "উত্তরাখণ্ডের পরিবেশ, স্থানীয়দের আবেগ এবং রাজ্যের উন্নয়ন—আমার কাছে তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না সমস্ত পক্ষের মধ্যে একটি সন্তোষজনক ঐক্যমত তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত গাছ কাটা স্থগিত থাকবে।"

 

জানা গিয়েছে, গাছ কাটার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে 'সাত মোড়' এলাকায় পরিবেশকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পড়ুয়ারা লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। এমনকি পুলিশি পাহারায় গাছ কাটার কাজ শুরু হয়ে গেলে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়। এই আন্দোলনের পরই মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নতুন করে আশ্বাস দেন।

 

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার এই প্রকল্পটি হাইকোর্টের নির্দেশিকা এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র মেনেই বাস্তবায়িত করা হচ্ছিল। বন্যপ্রাণীদের যাতায়াত আরও সুগম করতে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এই প্রকল্পে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আন্ডারপাস এবং বিশেষ কালভার্ট তৈরির করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত গাছ কাটার কাজ বন্ধ রেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। এর পর আদালতের নির্দেশিকা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।