আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুণের পিম্পরি এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আর্থিক অনটনে ভুগে একই পরিবারের তিন জন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তিন জনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।

মৃতেরা হলেন ৫০ বছরের বিনোদ পিল্লাই, তাঁর ৪৫ বছরের স্ত্রী সির্জা পিল্লাই এবং তাঁদের ১৯ বছরের মেয়ে পূর্ণিমা পিল্লাই। পুলিশ উদ্ধার করার আগেই বিনোদের মৃত্যু হয়েছিল। সির্জা এবং পূর্ণিমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দু'জনের।

বিনোদ আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। অন্য দিকে সির্জা একটি স্কুলে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করতেন।

সির্জা কাজে না যাওয়ায় প্রথম সন্দেহ হয় তাঁর সহকর্মীদের। ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁরা সির্জার আত্মীয়দের খবর দেন। আত্মীয়েরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তিন জনই অচেতন হয়ে পড়ে রয়েছেন।

খবর পেয়ে সন্ত তুকারাম নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং সোডিয়াম নাইট্রেট নামের একটি রাসায়নিকের পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের অনুমান, রাসায়নিকটি অনলাইন থেকে আনিয়েছিলেন বিনোদ। সেটি জ্বালানোর পর তৈরি হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

সুইসাইড নোটে বিনোদ জানিয়েছেন, মাথার ওপর চেপে বসা ঋণের বোঝার কারণেই তাঁরা এই কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই মৃত্যুর জন্য যেন অন্য কাউকে দায়ী করা না হয়, সে কথাও লিখেছেন তিনি।

তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই চরম আর্থিক টানাটানির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি। দেনার দায় মেটাতে তিন বছর আগেই নেহরু নগরের নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে দিতে হয়েছিল তাঁদের। তার পর থেকে মোরওয়াড়ি এলাকায় একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন তাঁরা। ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।