আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন আন্দোলনের রমরমার কয়েক দিনের মাথাতেই এবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র গতিবিধির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠল। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইন বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’-এর খবর অনুযায়ী, রাজা চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি এই আবেদনটি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো আইনজীবী এবং জাল আইন ডিগ্রির রমরমা দেশের বিচার ব্যবস্থার মান নষ্ট করছে। অবিলম্বে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন।

আদালতের শুনানির সময় বিচারপতিদের মুখের কথা বা মন্তব্যকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন মামলাকারী। তাঁর দাবি, আদালতের মন্তব্যকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে এবং সেটিকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে টাকা কামানো হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র কয়েক দিনেই নেটদুনিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এই আন্দোলন। তবে বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যেই ভারতে তাদের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, তাঁদের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নানা বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে।

সমর্থকদের মতে, দেশে বেকারত্ব, বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষকে অবহেলা করার বিরুদ্ধে এটি একটি রসাত্মক কিন্তু কড়া প্রতিবাদ। অন্যদিকে, সমালোচকরা এই আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সিজেপি-র মূল ভাবনা দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রতিবাদের ওপর। ‘আরশোলা’ বা ককরোচ-কে তারা দুর্বল নয়, বরং টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছে। তাদের বার্তা- সমাজের অবহেলিত এবং কর্মহীন যুবসমাজ ফুরিয়ে যায়নি। তারা এখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে এবং নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারে। বেকারত্ব দূর করা, সরকারি ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং তরুণ প্রজন্মের প্রশ্ন তোলার অধিকারের কথাই বলা হয়েছে এই দলের ইশতেহারে।

জানা গিয়েছে, দেশের যুবসমাজকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বেকার যুবকদের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই রাগ থেকেই জন্ম নেয় এই অভিনব আন্দোলন।

৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের কাজে তিনি যথেষ্ট পরিচিত। পুনে থেকে সাংবাদিকতায় পাস করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সম্প্রতি বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন অভিজিৎ। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির (আপ) সোশ্যাল মিডিয়া এবং নির্বাচনী প্রচারের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

এদিকে, এই অনলাইন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় ছত্রপতী সম্ভাজিনগরে অভিজিতের পৈতৃক বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিজিৎ বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও, তাঁর বাবা-মা ওই বাড়িতেই থাকেন।

পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে সিজেপি নিয়ে এই মুহূর্তে তুমুল চর্চা চলছে। তাই আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা কোনও অপ্রীতিকর জমায়েত রুখতেই অভিজিতের বাড়ির সুরক্ষায় দিনরাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি।