সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার খবর। এবার আর কোনও টাকা চুরির ঘটনা নয়। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে একের পর এক অবিবাহিত পুরুষকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির উপর।
বিয়ের টোপ দিয়ে ৫০০ জন পুরুষকে প্রতারণার জালে ফাঁসিয়েছিল এক ব্যক্তি। বিলাসপুরের বাসিন্দা হরিশ ভরদ্বাজ নামে এক ব্যক্তি এই অভিনব প্রতারণা চক্রটি চালাত। ভোপাল সাইবার ক্রাইম শাখার তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। যদিও ঘটনাটা বেশ কয়েক বছর পুরনো। তবুও সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে এই ঘটনাটি।
তদন্তকারীদের মতে, হরিশ কোনও বড় প্রযুক্তিবিদ নয়, মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পাশ। অথচ সে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রীতিমতো একটি প্রতারণার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। সে ছ'টি ভুয়ো ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইট খুলেছিল, যার নামগুলো ছিল বেশ আকর্ষণীয়—যেমন ‘ইন্ডিয়ান রয়্যাল ম্যাট্রিমোনি’, ‘ড্রিম পার্টনার ইন্ডিয়া’ বা ‘সঙ্গম বিবাহ’। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দিয়ে সে অবিবাহিত মহিলাদের টার্গেট করত। ইন্টারনেট থেকে মেয়েদের ছবি চুরি করে সে সব ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করেছিল, যা দেখে অনেকেই সহজে বিশ্বাস করে ফেলত।
এই চক্রে কাজ করত তার একটা বিশাল টিম। আলিগড়, বারাণসী এবং বিলাসপুরে কল সেন্টার খুলে টেলি-কলারদের মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন দেখানো হত। পাত্রী সেজে তারা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলত এবং হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করত। এরপর বিয়ের খরচ, আইনজীবী, হোটেলের বুকিং কিংবা গয়না কেনার নাম করে একেকজনের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। কেউ টাকা দিতে আপত্তি জানালে তাকে আইনি মামলার ভয় পর্যন্ত দেখানো হত।
ভোপালের এক ৪৭ বছর বয়সী ব্যক্তি যখন প্রতারণার শিকার হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন, তখনই পুরো বিষয়টি সামনে আসে। হরিশকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে এই জঘন্য প্রতারণার সমস্ত তথ্য বেরিয়ে আসে। সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের উঠে এসেছে এই জালিয়াতির খবর। যা এখন রীতিমতো ভাইরাল।
















