আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো ‘ই২০’ জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। সংসদকে পরিষ্কার জানিয়ে দিল কেন্দ্র। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, পুরনো ইথানল-মুক্ত পেট্রলে ফেরার কোনও সুযোগ নেই।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী লিখিত জবাবে জানান, প্রযুক্তিকে পিছিয়ে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না, সরকার সব সময় আধুনিক প্রযুক্তির দিকেই এগোবে। একই সঙ্গে ইথানলের মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোরও আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই।
পার্লামেন্টে পেশ করা তথ্যে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছে ভারত। ২০২২-২৩ সালে যেখানে ইথানলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১২ শতাংশ, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পুরো ২০ শতাংশে। আর ৮৫ শতাংশ ইথানলযুক্ত ‘ই৮৫’ জ্বালানি সাধারণ গাড়ি বা পেট্রল পাম্পের জন্য নয়, তা শুধু বিশেষ ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ গাড়ির জন্য।
ই২০ পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হচ্ছে বা মাইলেজ কমে যাচ্ছে- সোশ্যাল মিডিয়ার এই ধরনের দাবি সোজাসুজি উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই জ্বালানিতে ইঞ্জিনের অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। দেশের একটি প্রথম সারির চার চাকা প্রস্তুতকারী সংস্থা ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ি সার্ভিসিং করেও ইথানলের জন্য ইঞ্জিন বিকলের একটিও অভিযোগ পায়নি।
দু’চাকার গাড়ি তৈরির সংস্থাও একই কথা জানিয়েছে। আপাতত দেশের ২০ কোটির বেশি দু’চাকা এবং ৩ কোটির বেশি চার চাকার গাড়ি কোনও সমস্যা ছাড়াই ই২০ পেট্রলে চলছে।
মাইলেজ কমা নিয়ে কেন্দ্রের ব্যাখ্যা- জ্বালানির সাশ্রয় নির্ভর করে গাড়ি চালানোর নিয়ম ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। পুরনো ই১০ গাড়িতে ই২০ ভরলে মাইলেজে খুব সামান্য (৩-৫ শতাংশ) তফাত হতে পারে। তবে এই পেট্রলের 'অক্টেন নম্বর' বেশি হওয়ায় গাড়ির পিক-আপ এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
এই প্রকল্পের ফলে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ দুটোই বড় লাভবান হয়েছে-
প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা বেঁচেছে এবং ৩১৬ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল কম আমদানি করতে হয়েছে।
প্রায় ৯৫২ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে।
দেশের কৃষকরা সরাসরি ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পেয়েছেন।
ই২০ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য হেল্পলাইন, অ্যাপ, পেট্রল পাম্পের খাতা ও ওয়েবসাইট চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। প্রতিটি অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
















