আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেই সারা দেশে লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে চাইছে কেন্দ্র। এর জন্য একটি নতুন বিল আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সব দলের মধ্যে সম্মতি তৈরির কাজও শুরু করেছে মোদি সরকার।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক দশক পর লোকসভা আসনগুলির সীমানায় বিরাট বদল আসতে চলেছে। তবে এই পদক্ষেপ ভারতের রাজনীতিতে পুরনো এক বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিতে পারে।
সূত্রের খবর, কোনও আইন আনার আগেই বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই একাধিক দলের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন্দ্রের এই তৎপরতা শুরু হলো। বর্তমানে লোকসভার আসন সংখ্যা ১৯৭১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ঠিক করা রয়েছে।
সংবিধানে এই আসন সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই সময়সীমা ফুরনোর পর এবার যদি নতুন করে সীমানা ঠিক করা হয়, তবে লোকসভায় রাজ্যভিত্তিক আসন সংখ্যা ওলটপালট হয়ে যাবে। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩ জন নির্বাচিত সাংসদ রয়েছেন।
দক্ষিণ ভারতের যে সব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে লোকসভায় তাদের আসন কমে যাওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যগুলির এই উদ্বেগ নিয়ে কেন্দ্রও সচেতন। তাই এমন এক পথ খোঁজা হচ্ছে, যাতে সব দলই তাতে রাজি হয়।
নবান্ন বা অন্য আঞ্চলিক দলগুলির আপত্তির কথা মাথায় রেখে সরকার মনে করছে, জোর করে নয়, বরং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এর সমাধান করা উচিত। লক্ষ্য একটাই- রাজ্যের অধিকারও যাতে বজায় থাকে, আবার ন্যায্যভাবে আসনও ভাগ করা যায়।
খবর অনুযায়ী, আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা এ পর্যন্ত বেশ ইতিবাচক। কোনও আইন পাসের আগে একটি খসড়া তৈরি করে নিতে চাইছে দিল্লি। সব দলের মধ্যে একটা বোঝাপড়া তৈরি হলেই কেন্দ্র এই বিল নিয়ে এগোবে।
আগামী লোকসভা ভোটের আগে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, সংসদের আসন সংখ্যা, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী মানচিত্রের ওপর এর এক গভীর প্রভাব পড়তে বাধ্য।
















