২২ মে ইম্পার মিটিংয়ে ফের অশান্তির আবহ তৈরি হয়। প্রথমে মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। এমনকী তিনি থানায় যাবেন বলেও জানান। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে ফের বৈঠক শুরু হয়। সেখানে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে রতন সাহাকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সেটা মানতে অস্বীকার করেন।
এদিন এই ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধ্বনি ভোট এবং রতন সাহাকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাকে সরিয়ে দিক। ওরা পুলিশকেও মানছে না। কাউকে মানছে না। নিজেদের মতো কমিটি গঠন করে বসে যাবে।" তাঁর প্রশ্ন, "ধ্বনি ভোট বলে কোনও বস্তু দেখেছেন? ব্যাপারটা বিচারাধীন। ওদের ওখানে ইসি সদস্য কে আছেন? ওরা যা ইচ্ছে করুক। আমরা আইনের পথে আছে। আইনি লড়াই হবে, তারপর ওরা যা পারে করুক।" রতন সাহা অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট, এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলেই, তিনি পুনরায় বলে ওঠেন, "এসব আমরা জানি না।"
এদিন পিয়া সেনগুপ্ত ছাড়াও, বেশ কিছু ইম্পা সদস্য জানান তাঁরা চান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হোক। তাঁদের কথায়, ২০২৫-এ ভোট হয়ে গিয়েছে। আবার ২৭ এর সেপ্টেম্বরে ভোট হবে
সাংবাদিক বৈঠকে পিয়া সেনগুপ্ত এদিন স্পষ্টই বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে বলব, এঁরা আপনাদের নাম নিয়ে যা করছে দেখুন। গায়ের জোরে যে দাদাগিরি করছে দেখুন। এঁরা কোনও পুলিশ মানছেন না, আইন মানছেন না, ইসি মেম্বার মানছেন না, কিছু মানছেন না।" এদিনের বৈঠকে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, বা টলিউডের দায়িত্ব পাওয়া ৪ বিজেপি নেতার অন্যতম রুদ্রনীল ঘোষকে আসার কথা বলেছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে পিয়া বলেন, "ওঁদের মেইল করেছিলাম, যেহেতু আজ সব সদস্যরা থাকবে তাই তাঁদের সম্বর্ধনা জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পাপিয়া দি আসবেন বলেছিলেন, রুদ্রনীলের সঙ্গে যখন কথা হয় উনি বলেছিলেন ৯ তারিখের পর মিটিং রাখলে ভাল হয়। হয়তো ওঁরা ব্যস্ত, তাই আসতে পারেননি।"
প্রসঙ্গত এদিন প্রথমে মিটিং থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বেরিয়ে আসেন পিয়া সেনগুপ্ত। সাংবাদিকের বলেন, "ভিতরে পিআরের লোক, বাইরের লোক ঢুকিয়েছে। পুলিশের সামনে এক ভদ্রলোক তেড়ে আসেন। কী করে মিটিং করব?" তাঁর আরও সংযোজন, "এটা কি কোনও তৃণমূল বা বিজেপি বা সিপিআইএমের পার্টি অফিস? বাইরে থেকে লোক এনে হাঙ্গামা করবে?" তিনি এদিন প্রকাশ্যে, সকলের সামনে বারবার প্রযোজক অতনু রায়ের নামে অভিযোগ করতে থাকেন। প্রযোজক তথা ডিস্ট্রিবিউটর শতদীপ সাহা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এলেও তিনি তাতে রাজি হন না।
সূত্রের খবর প্রথমে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা বললে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বদলান পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি এদিন সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন ইম্পার আজকের বৈঠকে নন মেম্বার অনেকে আছেন, তাঁদের তিনি রাখতে চান না মিটিংয়ে। পিয়া চান কেবল সদস্যরাই যেন থাকেন। তাঁর দাবি, বাইরের লোক নিয়ে এসেছেন কিছু প্রযোজক, পরিচালক। তাঁদের তিনি মিটিংয়ে রাখতে চান না। এরপর তাঁর দিকে তেড়ে আসা হলে তিনি মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলেই জানিয়েছেন।
















