নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন দিলজিৎকে৷ অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন দিলজিৎ নাকি আমেরিকার নাগরিক৷ যদিও এই বিষয় দিলজিৎ দোসাঞ্জ নিজে কখনও কিছু জানাননি৷ ইন্সটাগ্রামে লাইভ করাকালীন এই প্রশ্ন করা হলে দিলজিৎ এড়িয়ে যান৷ এর উত্তরে গায়ক যা বললেন তা শুনেই হেসেই খুজ অনুরাগীরা৷ গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জকে ঘিরে সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকত্বের জল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি আমেরিকার নাগরিক? তবে প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর না দিয়ে নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধেই পরিস্থিতি সামাল দেন দিলজিৎ। তাঁর মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর চর্চা।

এক ব্যক্তি মজার ছলে বলেন, যদি দিলজিৎ এখনও গ্রিন কার্ড না পেয়ে থাকেন, তাহলে যেন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য নেন। কারণ, ট্রাম্পের মেয়ে নাকি দিলজিতের বড় ভক্ত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনুসরণও করেন। এই মন্তব্য শুনে হেসে ফেলেন শিল্পী।

এর জবাবে দিলজিৎ বলেন, তিনি কখনও ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার জন্য কারও কাছে অনুরোধ করেন না। তাঁর কথায়, "আমি কখনও কারও কাছে কোনও অনুগ্রহ চাই না। গ্রিন কার্ড দরকার হলে আমি নিজেই কাগজে সবুজ রং করে নেব" এরপর ট্রাম্পের মেয়ে তাঁকে ফলো করেন, এই প্রসঙ্গও তিনি হালকা মেজাজেই বলেন ট্রাম্পের মেয়ে আমাকে অনুসরণ করলেও আমি কখনও উড়িয়ে দেন। নাগরিকত্ব নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তাঁর এই জবাব উপস্থিত দর্শকদের হাসিয়ে তোলে।

সুত্রের খবর ২০১৮ সালে মুম্বইতে দিলজিৎ ভারতের পাসপোর্ট পান৷ তাঁর স্ত্রী সন্দীপ কৌর আমেরিকার নাগরিক। ক্যালিফোর্নিয়াতে একটা বাংলো আছে দিলজিতের৷ যদিও এই বিষয় দিলজিৎ কখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি৷ 

গত কয়েক মাসে দিলজিৎ দোসাঞ্জ একাধিক কারণে খবরের শিরোনামে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনই বিভিন্ন বিতর্কও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। তবে এসব প্রসঙ্গে তিনি বরাবরই সংযত থাকেন এবং প্রায়শই রসিকতার মাধ্যমে অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
দিলজিতের এই প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। কেউ তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মনে করছেন, নাগরিকত্ব নিয়ে চলা জল্পনা তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই স্পষ্ট করতে চাননি। তবে এ বিষয়ে দিলজিতের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।

পঞ্জাবি সঙ্গীত এবং বলিউড—দুই ক্ষেত্রেই সফল কেরিয়ার গড়া দিলজিৎ দোসাঞ্জ বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরেও অন্যতম পরিচিত ভারতীয় শিল্পী। তাঁর কনসার্ট, সিনেমা এবং সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আর এবার মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর রসিকতাই আবারও প্রমাণ করল, কঠিন পরিস্থিতিকেও কীভাবে সহজভাবে সামাল দিতে জানেন তিনি।