আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাহাড়ের তিন আসন ছেড়ে, মঙ্গলবার একযোগে ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার নজরে নির্বাচনী ইস্তেহার। শুক্রবার বিকেলে অভিষেককে পাশে বসিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করলেন দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। ছ'টি ভাষায় দলের ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচনী ইস্তেহার কী?
আসলে ভোটের মুখে, রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি। জনগণের কাছে নিজেদের উদ্দেশ্য, দায়বদ্ধতা নিয়ে বার্তা। অর্থাৎ ভোট জিতলে, ওই দল, সাধারণের জন্য কী কী করার পরিকল্পনা করেছে, মানুষের কাছে অঙ্গীকার কী কী, একযোগে তা জানানো।
কী বললেন মমতা?
বক্তব্যের শুরুতেই নির্বাচন কমিশন, গেরুয়া শিবিরকে একহাত নেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। একেবারে শুরুতেই তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত অনেক লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এবারের চক্রান্ত সমত চক্রান্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে।' যেন তেন প্রকারে বাংলা দখল করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।
তৃণমূলের ইস্তেহারে উল্লিখিত, 'বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা'-
লক্ষ্মীদের জয়, স্বনির্ভরতা অক্ষয়
যুবদের পাশে জীবীকার আশ্বাস
বাজেটে কৃষি, কৃষকের হাসি
নিশ্চিত বাসস্থান চিন্তার অবসান
ঘরে ঘরে নল, পরিশ্রুত পানীয় জল
সুস্বাস্থ্যের অধিকার, বাংলার সবার
শিক্ষাই সম্পদ, ভবিষ্যৎ নিরাপদ
পূর্বের বাণিজ্যের কাণ্ডারী, বাংলাই দিশারী
প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে
প্রশাসনিক সুবিধায় নতুন দিগন্ত বাংলায়
এদিন মমতা বললেন-
দেউচা পাঁচামি হয়ে গেলে, আগামী একশ বছর বিদ্যুতের কোনও সমস্যা হবে না।
রঘুনাথপুর, শালবনিতে বিনিয়োগের কথা বলেন মমতা।
প্রতি জেলায় জেলায় সেলফ হেল্প গ্রুপের জন্য বিশেষ জায়গা বরাদ্দ করা হবে।
মমতা বললেন, এবার রাজ্যে শুরু হবে দুয়ারে চিকিৎসা। প্রতি বছর, প্রতি ব্লকে, টাউনে, দুয়ারে স্বাস্থ্যের ক্যাম্প হবে।
বাংলা শিক্ষায়তনগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্ত। কয়েকহাজার বিদ্যালয় আপগ্রেড করা হবে। সেখানে ই-লার্নিং থেকে শুরু করে থাকবে একাধিক উন্নত প্রযুক্তি।
প্রবীণদের জন্য বড় অঙ্গীকারের কথা বললেন মমতা ব্যানার্জি।
বললেন, প্রশাসনিক সুবিধায় রাজ্যে সাত থেকে দশটি নতুন জেলা করা হবে।
জানালেন, ইদের পর থেকে প্রচার শুরু করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
আগামী দিনে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান হবে, বললেন তাও।
এদিন মমতা বলেন, বাংলা আগে ডিম ও পেঁয়াজ আমদানি করত, কিন্তু এখন আমরা এর ৯০% উৎপাদন করি। আমরা মাছ চাষেও নজর দিয়েছি। ২০১৩ সালে আমরা ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করি এবং সেই কারণেই এখন রাজ্যে প্রচুর ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী—রঘুনাথপুরে ৭২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর সবটাই করা হচ্ছে। এখানে তিনটি কোচ ফ্যাক্টরি তৈরি করা হয়েছে, কারণ আমরা সব দিক থেকে এর সুবিধা করে দিয়েছি। ওয়াগন থেকে ইঞ্জিন থেকে কোচ—সব ধরনের কারখানা এখানে স্থাপন করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো এদিন বলেন, 'মোদি সরকার প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তার বদলে জাতীয় স্তরে বেকারত্ব বেড়েছে। বাংলায় বেকারত্ব ৪০% কমেছে। জাতীয় স্তরে আরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যেখানে বাংলায় আমরা ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছি।'
উঠে আসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, 'আমরা সমস্ত মহিলাদের জন্য আজীবনের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং আমরা তা পূরণ করেছি। এবার আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ৫০০ টাকা বাড়িয়েছি। সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০) এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০) দেওয়া হচ্ছে।'
পাকা বাড়ি প্রসঙ্গে তৃণমূলের কংগ্রেসের অঙ্গীকার মনে করান দলের সুপ্রিমো, বলেন, 'নিকট ভবিষ্যতে সবার কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।'
&t=1800s
















